প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১:০৫:৪৬

ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ দশমিক ১২ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১১ দশমিক ৪০ ডলার কমে ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে এসেছে, যা প্রায় ১২ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতই মূলত এই দরপতনের প্রধান কারণ। ইউবিএসের বিশেষজ্ঞ জিওভানি স্টাউনোভোর মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে বাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হবে কিনা, তা নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কতটা বাড়ে তার ওপর।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন নির্ধারিত নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তি পরিস্থিতির প্রত্যাশাই তেলের বাজারে এই আকস্মিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।











